নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতা, বিভিন্ন ক্রনিক রোগের প্রতিরোধ, ডায়েট চার্ট ও জরুরি ফার্স্ট এইড সম্পর্কে জেনে পরিবারসহ আজীবন সুস্থ থাকুন।
হাসপাতালে যাওয়ার পূর্বে জরুরি লক্ষণ চেনা ও তাৎক্ষণিক জীবনরক্ষাকারী করণীয়।
মোট 25 টির মধ্যে 12 টি প্রদর্শিত হচ্ছে
দৈনন্দিন রোগব্যাধি, লক্ষণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নির্ভরযোগ্য প্রশ্নোত্তর।
সুস্থ মানুষের রক্তে স্বাভাবিক প্লাটিলেট দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ। ডেঙ্গু জ্বরে প্লাটিলেট ৫০,০০০-এর নিচে নামলে, অথবা প্লাটিলেটের পাশাপাশি তীব্র পেটব্যথা, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, এবং ক্রমাগত বমি দেখা দিলে কালবিলম্ব না করে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। তবে প্লাটিলেটের সংখ্যার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরে তরলের ভারসাম্য (হেমাটোক্রিট) স্বাভাবিক রাখা।
গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা সাধারণত বুকের মাঝে জ্বালাপোড়া করে এবং অ্যান্টাসিড বা পানি খেলে উপশম হয়। অন্যদিকে হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা বুকে ভারী পাথর চেপে বসার মতো তীব্র চাপ সৃষ্টি করে, যা বাম হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়ে। এর সাথে প্রচুর ঠাণ্ডা ঘাম, শ্বাসকষ্ট ও মাথা ঘোরার মতো মারাত্মক উপসর্গ থাকে। যেকোনো সন্দেহজনক তীব্র বুকে ব্যথায় দেরি না করে দ্রুত ইসিজি (ECG) করা উচিত।
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সকালে খালি পেটে (Fasting) রক্তের গ্লুকোজ ৫.৫ থেকে ৭.০ মিলিলেটার/লিটার (mmol/L) এবং খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর (2HABF) ৮.০ থেকে ১০.০ mmol/L থাকা আদর্শ। এছাড়া বিগত ৩ মাসের গড় শর্করা পরিমাপক HbA1c টেস্টের ফলাফল ৭.০% এর নিচে রাখলে ডায়াবেটিসজনিত দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
উচ্চ রক্তচাপ একটি দীর্ঘমেয়াদী লাইফস্টাইল রোগ। ওষুধ রক্তনালীকে শিথিল রেখে প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। তাই রক্তচাপ স্বাভাবিক হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করা বিপজ্জনক। তবে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ওজন হ্রাস ও দৈনিক ব্যায়ামের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসলে চিকিৎসক ওষুধের মাত্রা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে পারেন।
স্ট্রোক চেনার আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো FAST: ১. Face: মুখের একপাশ বাঁকা হয়ে যাওয়া বা হাসি অসম হওয়া। ২. Arm: এক হাত বা পা দুর্বল হয়ে যাওয়া বা অবশ হওয়া। ৩. Speech: কথা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্ট বলতে না পারা। এই লক্ষণগুলো দেখা দেওয়ার সাথে সাথে রোগীকে ৪.৫ ঘণ্টার মধ্যে সিটি-স্ক্যান সুবিধাযুক্ত হাসপাতালে নিয়ে গেলে রক্তের জমাট গলিয়ে রোগীর স্থায়ী পক্ষাঘাত রোধ করা সম্ভব।
সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের দিনে আড়াই থেকে সাড়ে তিন লিটার (১০-১২ গ্লাস) বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। তবে তীব্র রোদে বা ভারী কায়িক পরিশ্রমে এর পরিমাণ বাড়াতে হবে। আপনার পানি পান পর্যাপ্ত হচ্ছে কিনা তা বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রস্রাবের রং হালকা খড়ের মতো স্বচ্ছ থাকা। তবে কিডনি বা হার্ট ফেইলিওরের রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট পরিমাপ মেনে পানি পান করতে হবে।
একদমই না। শিশুদের শতকরা ৮০-৯০ ভাগ সর্দি, কাশি ও জ্বর ভাইরাসজনিত কারণে হয়ে থাকে, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজ করে না। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক শিশুর অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। জ্বর হলে শুধু প্যারাসিটামল, প্রচুর তরল খাবার ও স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিন। ৩ দিনের বেশি জ্বর থাকলে বা শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়লে শিশু বিশেষজ্ঞ দেখান।
ফেনীর সেরা স্পেশালিস্ট ডাক্তারদের চেম্বার শিডিউল দেখুন এবং হেলথ ক্লাব মেম্বারশিপ কার্ডে ডাক্তার ভিজিট ও প্যাথলজি টেস্টে আকর্ষণীয় ছাড় পান।
মেডিকেল ও স্বাস্থ্য তথ্য বিষয়ক সতর্কবার্তা
হেলথ ক্লাবের সকল স্বাস্থ্য টিপস ও গাইড নিবন্ধিত চিকিৎসকদের পরামর্শ ও আন্তর্জাতিক মেডিকেল গাইডলাইনের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত। এই তথ্যগুলো স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তৈরি এবং এটি চিকিৎসকের সরাসরি প্রেসক্রিপশন বা ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিসের বিকল্প নয়। জরুরি বা জটিল শারীরিক সমস্যায় অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন অথবা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন।