সব টিপসে ফিরে যান
পুষ্টি ও ডায়েট
২ মিনিট পড়ার সময়
২২ অক্টোবর, ২০২৬
ইউরিক এসিডের লক্ষণ, পিউরিন সমৃদ্ধ নিষিদ্ধ খাবার ও কমানোর সহজ খাদ্যতালিকা
ডাঃ তানভীর আহমেদ (বাতব্যথা ও রিউম্যাটোলজি ফেলো)
চিকিৎসক দ্বারা পর্যালোচিত ও প্রকাশিত
একনজরে জরুরি পরামর্শ
- রক্তে ইউরিক এসিডের স্বাভাবিক মাত্রা: পুরুষদের ৩.৫ থেকে ৭.২ mg/dL এবং নারীদের ২.৬ থেকে ৬.০ mg/dL।
- পায়ের বুড়ো আঙুল, গোড়ালি বা হাঁটুতে হঠাৎ লালচে ভাব, তীব্র জ্বালাপোড়া ও অসহ্য ব্যথা গাউট (Gout) বা ইউরিক এসিড ক্রিস্টালের স্পষ্ট লক্ষণ।
- উচ্চ-পিউরিন খাবার যেমন গরুর মাংস, খাসি, কলিজা, মগজ, চিংড়ি, শুঁটকি ও সামুদ্রিক মাছ খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
- প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করুন; পর্যাপ্ত পানি প্রস্রাবের সাথে ইউরিক এসিড ধুয়ে বের করে দিতে সাহায্য করে।
- ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল (কাঁচা লেবু, আমলকী, পেয়ারা ও জাম্বুরা) রক্তে ইউরিক এসিডের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাহায্য করে।
ইউরিক এসিড হলো শরীরে পিউরিন (Purine) নামক প্রোটিন বিপাকের স্বাভাবিক উপজাত। স্বাভাবিক অবস্থায় কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে এটি শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু অতিরিক্ত পিউরিন গ্রহণ করলে বা কিডনির নিষ্কাশন ক্ষমতা কমে গেলে রক্তে ইউরিক এসিড বেড়ে ক্রিস্টাল আকারে অস্থিসন্ধিতে জমা হয়, যার ফলে তীব্র গিঁটের ব্যথা বা গাউট সৃষ্টি হয়।
**উচ্চ-পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার (যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ):**
- লাল মাংস (গরু, খাসির মাংস)
- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ (কলিজা, গিলা, মগজ, ভুঁড়ি)
- সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি ও শুঁটকি
- পালং শাক, পুঁই শাক ও অতিরিক্ত ঘন ডাল
- ফুলকপি ও মাশরুম (তীব্র ব্যথার সময় সীমিত রাখা উচিত)।
**যেসব খাবার ইউরিক এসিড কমাতে সাহায্য করে:**
- লেবুর পানি: প্রতিদিন সকালে ১ গ্লাস হালকা গরম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন।
- টক দই ও লো-ফ্যাট দুধ: দুগ্ধজাত প্রোটিন রক্তে ইউরিক এসিড কমাতে সহায়ক।
- শসা, লাউ, পেঁপে ও পটল: কম পিউরিনযুক্ত সবজি।
- চেরি ও আপেল: চেরির অ্যান্থোসায়ানিন প্রদাহ কমায়।
**কিডনি সুরক্ষায় সতর্কতা:** দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ ইউরিক এসিড থাকলে কিডনিতে ইউরিক এসিড স্টোন (Kidney Stone) এবং ক্রনিক কিডনি রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এই স্বাস্থ্য গাইডটি শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত অন্যান্য স্বাস্থ্য গাইড
বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন
ফেনীর সেরা কনসালট্যান্টদের চেম্বার শিডিউল দেখুন ও মেম্বার ডিসকাউন্টে সেবা গ্রহণ করুন।
মেডিকেল ও স্বাস্থ্য তথ্য বিষয়ক সতর্কবার্তা
হেলথ ক্লাবের সকল স্বাস্থ্য টিপস ও গাইড নিবন্ধিত চিকিৎসকদের পরামর্শ ও আন্তর্জাতিক মেডিকেল গাইডলাইনের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত। এই তথ্যগুলো স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তৈরি এবং এটি চিকিৎসকের সরাসরি প্রেসক্রিপশন বা ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিসের বিকল্প নয়। জরুরি বা জটিল শারীরিক সমস্যায় অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন অথবা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন।