Electric Shock Rescue & Emergency Management Protocol
কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে খালি হাতে রোগীকে স্পর্শ করবেন না। অবিলম্বে মেইন সুইচ বন্ধ করুন বা শুকনো কাঠ, বাঁশ অথবা প্লাস্টিক দিয়ে বিদ্যুৎ উৎস বিচ্ছিন্ন করুন। রোগীকে নিরাপদ স্থানে এনে শ্বাস ও পালস পরীক্ষা করুন; শ্বাস না থাকলে তাৎক্ষণিক সিপিআর দিন এবং দ্রুত ফেনী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিন।
দুর্ঘটনার প্রথম গোল্ডেন আওয়ারে রোগীর জীবন বাঁচাতে ক্রম অনুযায়ী এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন।
বিলম্ব না করে ঘরের প্রধান বিদ্যুৎ সুইচ (MCB / Circuit Breaker) বন্ধ করুন বা প্লাগ সকেট থেকে খুলে ফেলুন।
মেইন সুইচ বন্ধ করা না গেলে শুকনো কাঠের লাঠি, শুকনো বাঁশ বা প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে রোগীর ওপর থেকে তার সরিয়ে নিন। নিজে শুকনো রাবারের জুতো বা কাঠের ওপর দাঁড়ান।
বিদ্যুৎমুক্ত হওয়ার পর রোগীকে নিরাপদ ও শুষ্ক স্থানে শোয়ান। ১০ সেকেন্ডের মধ্যে রোগীর বুক ওঠানামা বা শ্বাস পরীক্ষা করুন।
বিদ্যুৎস্পৃষ্টতায় হৃদস্পন্দন বন্ধ (Cardiac Arrest) হওয়া খুব স্বাভাবিক। শ্বাস না থাকলে বুক বরাবর ৩০ বার শক্ত চাপ ও ২ বার কৃত্রিম শ্বাস (CPR) শুরু করুন।
বিদ্যুৎ প্রবেশের ও বের হওয়ার স্থান (Entry and Exit Wounds) পরিষ্কার শুকনো কাপড় দিয়ে ঢেকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করুন।
নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে কালবিলম্ব না করে রোগীকে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে:
হাসপাতাল রোড, ফেনী সদর, ফেনী • ইসিজি (ECG), ডিফিব্রিলেটর, কার্ডিয়াক মনিটরিং, বার্ন ড্রেসিং ও আইসিইউ সাপোর্ট।
হ্যাঁ, বিদ্যুৎ মানবদেহের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক ছন্দপতন (Arrhythmia) ঘটাতে পারে যা কয়েক ঘণ্টা পরও মারাত্মক কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ হতে পারে। এছাড়া মাংসপেশির ভাঙন কিডনি নষ্ট করতে পারে, তাই হাসপাতালে রক্ত ও ইসিজি করানো আবশ্যক।
উদ্ধারকারীকে অবশ্যই বিদ্যুৎ অপরিবাহী শুকনো কাঠ বা প্লাস্টিকের লাঠি ব্যবহার করতে হবে, পায়ে শুকনো রাবারের জুতো পরতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই খালি হাতে রোগীকে বা ভেজা কোনো জিনিস স্পর্শ করা যাবে না।
Health Club Public Health & Clinical Protocol Research Team
আগুনে পুড়লে বা গরম তরলে ঝলসানো স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাভাবিক তাপমাত্রার বহমান পরিষ্কার পানি একটানা ১৫-২০ মিনিট ঢালুন। ভুলেও বরফ, টুথপেস্ট, ডিমের কুসুম, গোবর বা হলুদ লাগাবেন না। ফোসকা ফাটাবেন না এবং পরিষ্কার শুকনো সুতি কাপড় আলতো করে জড়িয়ে দ্রুত জরুরি বার্ন ইউনিটে নিন।
অতিরিক্ত গরমে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শরীরের তাপমাত্রা ১০৪° ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যাওয়া এবং ত্বক লালচে ও শুষ্ক হয়ে যাওয়ার লক্ষণ হলো হিটস্ট্রোক। তাৎক্ষণিকভাবে রোগীকে শীতল ছায়াযুক্ত স্থানে নিন, ভেজা তোয়ালে বা বরফের প্যাক ঘাড়, বগল ও কুঁচকিতে দিন এবং দ্রুত তাপমাত্রা ১০১°-এ নামাতে ফ্যানের বাতাস দিন।
সাপে কাটলে রোগীকে শান্ত রেখে আক্রান্ত অঙ্গ সম্পূর্ণ স্থির (Immobilize) রাখুন এবং দ্রুত ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল বা নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিন। ভুলেও দড়ি দিয়ে শক্ত বাঁধন দেবেন না, ব্লেড দিয়ে কাটবেন না কিংবা মুখ দিয়ে বিষ চুষবেন না। ফেনী সদর হাসপাতালে সরকারি অ্যান্টিভেনম সার্বক্ষণিক মজুত রয়েছে (হটলাইন: 0331-74011)।