Animal Bite & Rabies Post-Exposure Prophylaxis Protocol
কুকুর, বিড়াল বা বেজির কামড় কিংবা সামান্য আঁচড়ে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতের স্থান কাপড় কাঁচা ক্ষারযুক্ত সাবান ও চলমান পানিতে একটানা ১৫-২০ মিনিট ধুয়ে ফেলুন। ক্ষতস্থানে কোনো ব্যান্ডেজ বা সেলাই করবেন না। জলাতঙ্ক শতভাগ প্রাণঘাতী, তাই কামড়ের দিনই (Day 0) সরকারি হাসপাতালে র্যাবিস ভ্যাকসিন (ARV) নিন।
দুর্ঘটনার প্রথম গোল্ডেন আওয়ারে রোগীর জীবন বাঁচাতে ক্রম অনুযায়ী এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন।
কলের বহমান পানির নিচে কাপড় কাঁচা সাবান বা যেকোনো ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে ফেনা তুলে একটানা ১৫ থেকে ২০ মিনিট ক্ষতস্থান ধুয়ে নিন। সাবানের ক্ষার জলাতঙ্ক ভাইরাসের চর্বিযুক্ত আবরণ ধ্বংস করে।
সাবান-পানি দিয়ে ধোয়ার পর পরিষ্কার শুকনা তুলা দিয়ে মুছে পোভিডন আয়োডিন (Povidone Iodine 10%) বা স্পিরিট দ্রবণ ক্ষতে লাগান।
দেরি না করে ঘটনার দিনই ফেনী সদর হাসপাতাল বা টিকাদান কেন্দ্র থেকে প্রথম ডোজ (Day 0) র্যাবিস ভ্যাকসিন নিশ্চিত করুন।
রক্ত বের হওয়া বা মাংস খুবলে যাওয়া ক্যাটাগরি-৩ ক্ষতে ভ্যাকসিনের পাশাপাশি ক্ষতস্থানে সরাসরি র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (RIG) ও টিটেনাস ইনজেকশন নিতে হবে।
কামড়ানো কুকুর বা বিড়ালটিকে না মেরে ১০ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখুন। প্রাণীটি ১০ দিনের মধ্যে অসুস্থ বা মারা গেলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে কালবিলম্ব না করে রোগীকে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে:
হাসপাতাল রোড, ফেনী সদর, ফেনী • বিনামূল্যে সরকারি অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন (ARV), টিটেনাস টক্সয়েড ও ইমিউনোগ্লোবুলিন সাপোর্ট।
হ্যাঁ, বিড়াল নিজের জিহ্বা দিয়ে নিয়মিত নখ ও থাবা চাটে। ফলে তাদের নখে লালার মাধ্যমে জলাতঙ্কের ভাইরাস লেগে থাকে। নখের আঁচড়ে রক্ত না বের হলেও ত্বক ছিলে গেলে অবশ্যই সাবান-পানিতে ধুয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে ভ্যাকসিন নিতে হবে।
কামড়ের দিনই (Day 0) প্রথম ডোজ টিকা নেওয়া সর্বোত্তম। কোনোভাবেই ২৪ ঘণ্টার বেশি দেরি করা উচিত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী ০, ৩, ৭ এবং ২৮ তম দিনে মোট ৪টি ডোজ টিকা সম্পন্ন করতে হয়।
Health Club Public Health & Clinical Protocol Research Team
সাপে কাটলে রোগীকে শান্ত রেখে আক্রান্ত অঙ্গ সম্পূর্ণ স্থির (Immobilize) রাখুন এবং দ্রুত ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল বা নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিন। ভুলেও দড়ি দিয়ে শক্ত বাঁধন দেবেন না, ব্লেড দিয়ে কাটবেন না কিংবা মুখ দিয়ে বিষ চুষবেন না। ফেনী সদর হাসপাতালে সরকারি অ্যান্টিভেনম সার্বক্ষণিক মজুত রয়েছে (হটলাইন: 0331-74011)।
হারপিক, কেরোসিন, ফিনাইল বা কীটনাশক খেলে ভুলেও বমি করানোর চেষ্টা করবেন না। বমির সময় ক্ষতিকর রাসায়নিক খাদ্যনালী ও শ্বাসনালী পুনরায় দ্বিগুণ পুড়িয়ে দেয়। দ্রুত খেয়ে ফেলা রাসায়নিকের বোতল বা নমুনা সাথে নিয়ে রোগীকে নিকটস্থ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিন। প্রয়োজনে অবিলম্বে ৯৯৯-এ কল দিন।
আগুনে পুড়লে বা গরম তরলে ঝলসানো স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাভাবিক তাপমাত্রার বহমান পরিষ্কার পানি একটানা ১৫-২০ মিনিট ঢালুন। ভুলেও বরফ, টুথপেস্ট, ডিমের কুসুম, গোবর বা হলুদ লাগাবেন না। ফোসকা ফাটাবেন না এবং পরিষ্কার শুকনো সুতি কাপড় আলতো করে জড়িয়ে দ্রুত জরুরি বার্ন ইউনিটে নিন।